প্রান্তরের পদার্পণ - হীরা চুরি - প্রথম পরিচ্ছদ
প্রথম পরিচ্ছদ
"মা, প্রান্তর এখনও বাড়ি ফেরেনি?"
প্রান্তর। পুরো নাম প্রান্তর রায়। ওর সাথে আমার প্রথম পরিচয় টিউশানিতে আর সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। ও গ্রামের ছেলে। গ্রামকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু আজ সভ্যতার কাছে হেরে গিয়ে এই শহরে থাকতে, একপ্রকার বাধ্য হয়েছে। তার এই বাধ্যতার কারণ অথচ একটাই, পড়াশোনা। আমরা দু'জনই টাকী সরকারী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।কিন্তু এখনও যেহেতু কলেজ আরম্ভ হয়নি। শুধুমাত্র টিউশানির সুবিধার জন্যই প্রান্তর আমাদের বাড়িতে উপরের একটা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকে।
প্রান্তরকে প্রথম দিন দেখেই ধারণা করেছিলাম যে ওর বইয়ের প্রতি আগ্রহ খুব। আমার সেই ধারণা সত্যি হল যখন দেখলাম আমাদের বাড়িতে আসার সময় দুই ব্যাগ ভর্তি শুধু বই। পড়ার বইয়ের পাশাপাশি আরও নানা ধরনের গল্পের বই, ব্যোমকেশ, ফেলুদাও বাদ নেই। বাদ নেই শার্লক হোমস সহ আরো নানান ডিটেকটিভের গল্প। এই মাসখানেক হল ও এসেছে। ওকে দেখে যা বুঝলাম তা হল ও একটু সত্য অন্বেষণ করতে ভালোবাসে।
প্রান্তর শ্যাম বর্ণ হলেও স্বাস্থ্যবান আর খুব চতুর।ওর উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। মানে আমার থেকে ২ ইঞ্চি বেশি। প্রান্তর একটু উদাস প্রকৃতির। মাঝে মাঝেই দেখি ও অবাক হয়ে কি ভাবে।কয়েক দিন আগে ওর ঘরে গিয়ে একটা ডাইরি খুলে দেখি কিছু কবিতা লেখা।কবিতাগুলো সবই প্রেম বিরহ নিয়ে। সম্ভবত প্রান্তরের লেখা।
এবার আসল কথায় আসি। আজ আমাদের এক বন্ধু রাজদীপ রায়চৌধুরীর জন্মদিন ছিল। আমি, প্রান্তর সহ আমরা মোট পাঁচজন বন্ধু গিয়েছিলাম। আমরা সবাই মিলে রাজকে একটা দামি ঘড়ি উপহার দিয়েছিলাম। রাজ খুব খুশি আমরা যাওয়াতে। এছাড়াও আরো অনেকেই এসেছিল।যেমন, ওর মামা- মামি, জ্যাঠা- জ্যেঠি, পিসি সহ আরো কিছু নিকট আত্মীয়।
এখন একটা কথা বলে রাখা ভালো। রাজদীপ বুদ্ধিমান আর যথেষ্ট রসিক একজন। ওর মুখে আজও কখনও দুঃখের রেশ দেখিনি। সবসময় দেখেছি হাসতে ও হাসাতে। তবে যাই হোক,যতদূর রাজের মুখে শুনেছি সেটা হল এই যে, ওর পূর্বপুরুষরা এক সময় এখানকার জমিদার ছিলেন। তারাও নাকি খুব হাসিখুশি ছিলেন। রসিক ছিলেন। সেসব অনেক অনেক বছর আগের কথা। এখন সেই রাজপ্রাসাদের অবস্থা খুব শোচনীয়। সেজন্য ওরা পাশে নতুন বাড়ি করেছে। তবে তাদের সেই জমিদারিত্ব আজ না থাকলেও কিছু নীতি আজও তারা মেনে চলে। যেমন পরিবারের ছেলেদের আঠারো বছর পূর্ন হলেই তার জন্মদিনে তাকে একটা হীরার আংটি দেওয়া হয়।আর আংটিটা অবশ্যই বাবা পরিয়ে দেয়। আজ রাজের বয়স আঠারো পূর্ন হল।
আমরা সহ রাজেদের বাড়িতে মোট কুড়ি জন মতো হবে। সেই পুরানো রীতি অনুযায়ী রাজের জন্মদিন পালন হল। ওর বাবা অর্থাৎ অভিলাষ রায়চৌধুরী ওর আঙুলে একটা হীরের আংটি পরিয়ে দিলেন।তারপর অনেক আড্ডা, হাসি, মজা করলাম। অবশেষে খাওয়া দাওয়া করে ফেরার কিছুটা আগে প্রান্তর আমাকে বলল, "আমি চ্যাটার্জী লাইব্রেরীতে যাচ্ছি,তুই ওদের সাথে বাড়ি চলে যাস।" কেন এখন লাইব্রেরীতে যাচ্ছে সেটা জিজ্ঞাসা করার আগেই ও চলে যায়। তারপর আমি অন্য বন্ধুদের সাথে বাড়ি চলে আসি। কিন্তু মা জানাল এখনও প্রান্তর বাড়িতে আসেনি।
এতক্ষণ এত কথা বললাম কিন্তু নিজের নামটাই এখনও বলা হয়নি। আমি দেবাকর দত্ত। সবাই 'দেবা' বলেই ডাকে।
"কি ব্যাপার দেবা! এভাবে অবচেতন, উদাস হয়ে কি ভাবছিস?"-- বলল প্রান্তর।
আমি রেগে গিয়ে বললাম,"তোর কথা ভাবছি। ভাবছি এত রাতে লাইব্রেরীতে যাওয়ার কি প্রয়োজন ছিল, কাল যেতে পারতিস তো।"
তারপর প্রান্তর আমার খাটের উপর লম্বা সটান হয়ে শুয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে বলল, " একটা বই অর্ডার দেওয়ার ছিল। তাই গিয়েছিলাম।" তারপর আমার দিকে ফিরে বলল, "কাল যেতে পারতাম কিন্তু কাল গেলে বইটা হাতে আসতে আরও দেরী হয়ে যেত। কাল বুধবার সকালেই তো ওরা বই আনতে কলকাতা যাবে।"
দু'জনে আরও কিছুক্ষণ নানান বিষয়ে গল্প করে তারপর প্রান্তর নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল।
চলছে ......
"মা, প্রান্তর এখনও বাড়ি ফেরেনি?"
প্রান্তর। পুরো নাম প্রান্তর রায়। ওর সাথে আমার প্রথম পরিচয় টিউশানিতে আর সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। ও গ্রামের ছেলে। গ্রামকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু আজ সভ্যতার কাছে হেরে গিয়ে এই শহরে থাকতে, একপ্রকার বাধ্য হয়েছে। তার এই বাধ্যতার কারণ অথচ একটাই, পড়াশোনা। আমরা দু'জনই টাকী সরকারী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।কিন্তু এখনও যেহেতু কলেজ আরম্ভ হয়নি। শুধুমাত্র টিউশানির সুবিধার জন্যই প্রান্তর আমাদের বাড়িতে উপরের একটা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকে।
প্রান্তরকে প্রথম দিন দেখেই ধারণা করেছিলাম যে ওর বইয়ের প্রতি আগ্রহ খুব। আমার সেই ধারণা সত্যি হল যখন দেখলাম আমাদের বাড়িতে আসার সময় দুই ব্যাগ ভর্তি শুধু বই। পড়ার বইয়ের পাশাপাশি আরও নানা ধরনের গল্পের বই, ব্যোমকেশ, ফেলুদাও বাদ নেই। বাদ নেই শার্লক হোমস সহ আরো নানান ডিটেকটিভের গল্প। এই মাসখানেক হল ও এসেছে। ওকে দেখে যা বুঝলাম তা হল ও একটু সত্য অন্বেষণ করতে ভালোবাসে।
প্রান্তর শ্যাম বর্ণ হলেও স্বাস্থ্যবান আর খুব চতুর।ওর উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। মানে আমার থেকে ২ ইঞ্চি বেশি। প্রান্তর একটু উদাস প্রকৃতির। মাঝে মাঝেই দেখি ও অবাক হয়ে কি ভাবে।কয়েক দিন আগে ওর ঘরে গিয়ে একটা ডাইরি খুলে দেখি কিছু কবিতা লেখা।কবিতাগুলো সবই প্রেম বিরহ নিয়ে। সম্ভবত প্রান্তরের লেখা।
এবার আসল কথায় আসি। আজ আমাদের এক বন্ধু রাজদীপ রায়চৌধুরীর জন্মদিন ছিল। আমি, প্রান্তর সহ আমরা মোট পাঁচজন বন্ধু গিয়েছিলাম। আমরা সবাই মিলে রাজকে একটা দামি ঘড়ি উপহার দিয়েছিলাম। রাজ খুব খুশি আমরা যাওয়াতে। এছাড়াও আরো অনেকেই এসেছিল।যেমন, ওর মামা- মামি, জ্যাঠা- জ্যেঠি, পিসি সহ আরো কিছু নিকট আত্মীয়।
এখন একটা কথা বলে রাখা ভালো। রাজদীপ বুদ্ধিমান আর যথেষ্ট রসিক একজন। ওর মুখে আজও কখনও দুঃখের রেশ দেখিনি। সবসময় দেখেছি হাসতে ও হাসাতে। তবে যাই হোক,যতদূর রাজের মুখে শুনেছি সেটা হল এই যে, ওর পূর্বপুরুষরা এক সময় এখানকার জমিদার ছিলেন। তারাও নাকি খুব হাসিখুশি ছিলেন। রসিক ছিলেন। সেসব অনেক অনেক বছর আগের কথা। এখন সেই রাজপ্রাসাদের অবস্থা খুব শোচনীয়। সেজন্য ওরা পাশে নতুন বাড়ি করেছে। তবে তাদের সেই জমিদারিত্ব আজ না থাকলেও কিছু নীতি আজও তারা মেনে চলে। যেমন পরিবারের ছেলেদের আঠারো বছর পূর্ন হলেই তার জন্মদিনে তাকে একটা হীরার আংটি দেওয়া হয়।আর আংটিটা অবশ্যই বাবা পরিয়ে দেয়। আজ রাজের বয়স আঠারো পূর্ন হল।
আমরা সহ রাজেদের বাড়িতে মোট কুড়ি জন মতো হবে। সেই পুরানো রীতি অনুযায়ী রাজের জন্মদিন পালন হল। ওর বাবা অর্থাৎ অভিলাষ রায়চৌধুরী ওর আঙুলে একটা হীরের আংটি পরিয়ে দিলেন।তারপর অনেক আড্ডা, হাসি, মজা করলাম। অবশেষে খাওয়া দাওয়া করে ফেরার কিছুটা আগে প্রান্তর আমাকে বলল, "আমি চ্যাটার্জী লাইব্রেরীতে যাচ্ছি,তুই ওদের সাথে বাড়ি চলে যাস।" কেন এখন লাইব্রেরীতে যাচ্ছে সেটা জিজ্ঞাসা করার আগেই ও চলে যায়। তারপর আমি অন্য বন্ধুদের সাথে বাড়ি চলে আসি। কিন্তু মা জানাল এখনও প্রান্তর বাড়িতে আসেনি।
এতক্ষণ এত কথা বললাম কিন্তু নিজের নামটাই এখনও বলা হয়নি। আমি দেবাকর দত্ত। সবাই 'দেবা' বলেই ডাকে।
"কি ব্যাপার দেবা! এভাবে অবচেতন, উদাস হয়ে কি ভাবছিস?"-- বলল প্রান্তর।
আমি রেগে গিয়ে বললাম,"তোর কথা ভাবছি। ভাবছি এত রাতে লাইব্রেরীতে যাওয়ার কি প্রয়োজন ছিল, কাল যেতে পারতিস তো।"
তারপর প্রান্তর আমার খাটের উপর লম্বা সটান হয়ে শুয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে বলল, " একটা বই অর্ডার দেওয়ার ছিল। তাই গিয়েছিলাম।" তারপর আমার দিকে ফিরে বলল, "কাল যেতে পারতাম কিন্তু কাল গেলে বইটা হাতে আসতে আরও দেরী হয়ে যেত। কাল বুধবার সকালেই তো ওরা বই আনতে কলকাতা যাবে।"
দু'জনে আরও কিছুক্ষণ নানান বিষয়ে গল্প করে তারপর প্রান্তর নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল।
চলছে ......
মন্তব্য যোগ করুন
এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।
মন্তব্যসমূহ
-
আব্দুর রহমান আনসারী ০৬/০৪/২০২২নান্দনিক
-
সাইয়িদ রফিকুল হক ০৪/০৪/২০২২জীবনের ঘটনা!
-
আব্দুর রহমান আনসারী ২৮/০৩/২০২২অপূর্ব সুন্দর