উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ - প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
পাড়াতলির কবি শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যে অনেক কিছুই নতুন যোগ করেছেন।তার "উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ" কাব্যটি এরই একটা অংশ।কবি খুব সুন্দরভাবে সেগুলোকে ব্যাখ্যা করেছেন।তবে আমি নিজের মতো করেই ব্যাখ্যা করবো।সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ঘটনা হলো,বিএনপি চেয়ারপার্সনের রোহিঙ্গা অভিমুখে যাত্রা।এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই।তার দীর্ঘ সড়ক পথে দলের নিবেদিত প্রাণ মাঠপর্যায়ের কর্মীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে।তবে এটা যে বিএনপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কাল হয়ে দাড়াবে এটা ভাবা যায় না।ভাবলেই শিহরিত হতে হয়।বেগম জিয়া কক্সবাজারে যাওয়ার সময় আতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন।বিএনপি এ হামলার দায় চাপায় আওয়ামীলীগের ওপর।আওয়ামীলীগের কিছু নেতার মুখে শোনা গেছে এটা সাজা নাকি সাজানো নাটক।অথচ আমরা মিডিয়া মারফত জানতে পেরেছি হামলাতে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা!আওয়ামী মিথ্যাচার জনগনের কাছে বেশ হাস্যকর লেগেছে,তাতে সন্দেহ নেই।এটাকে আমজনতা যখন ভুলতে চাইছে সেই মূহুর্তে বিস্ফোরক(ককটেল,দেশীয় অস্ত্র) দিয়ে হামলা জাতিকে শঙ্কিত করেছে।সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মতো ব্যক্তিকে যারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলো না তারা সতের কোটি জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কীভাবে?আর এটাকে যদি রাজনৈতিক মাপকাঠিতে ফেলি তবে শঙ্কাটা আরো বাড়িয়ে দেয়।যেই মূহুর্তে নির্বাচন কমিশন এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করার অঙ্গীকার করছে সেই মূহুর্তে সরকারের এরকম স্বেচ্ছাচারিতা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা হিতে বিপরীত হবে নাতো?যদি নির্বাচনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ইচ্ছা আওয়ামীলীগের থেকে থাকে তবে কথা ভিন্ন কিন্তু তারা যদি একটা অর্থবহ নির্বাচন চায় তবে বিএনপিকে কিছু সুবিধা দিতে হবে।আওয়ামীলীগ বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাথে যে ব্যবহার করেছে সেটা মানবিক নয়।নিজেদেরকে গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা বলে বেড়ানো আওয়ামীলীগ যে বিরোধী শক্তিকে দমিয়ে রেখে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে সেটা জনগন মানবে বলে মনে হয়না।জনগন আবার ঘুরে দাড়াবে নাতো!সংসদীয় বিরোধী দল কার্যত সরকার দলেরই।সেখানে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে এরকম পরিস্থিতিতে ফেলা আওয়ামীলীগের জন্য নিঃসন্দেহে লজ্জা।প্রশ্নবিদ্ধ দশম জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতা যে আওয়ামীলীগ সরকারকে স্বৈরাচারের দিকে ঠেলে দিতে পারে সে আশঙ্কা অনেক আগেই বিশেষজ্ঞরা করেছিলো,সেটাকে একধাপ এগিয়ে দিলো গাড়ি বহরে টানা দ্বিতীয়বার হামলা।আর এটাকে যদি অতি উৎসাহীদের হামলা মনে করেন সেটাও বিপজ্জনক।সবদলেই অতি উৎসাহী থাকাটা দলকে অন্ধকারেই ঠেলে দেয়।আওয়ামীলীগ ও বিএনপি যেভাবে কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হয়েছে তাতে দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহের দিকে ধাবিত হচ্ছে।এভাবে চলতে থাকলে সুন্দর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্ট হবেনা।যেটা জননিরাপত্তা,রাষ্ট্রযন্ত্র,বিচার ব্যবস্থা সবকিছুর জন্যই হুমকি স্বরূপ।সরকারের আমলা ও বিরোধীনেতারা যেভাবে চলছে তাতে স্বদেশ উদ্ভট উটের পিঠে চলতে শুরু করে দিয়েছে।
মন্তব্য যোগ করুন
এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।
মন্তব্যসমূহ
-
তনুর ভাই ১৬/১১/২০১৭পশুর কাধে সবুজ বাংলা বা সবুজ বাংলায় পশু ঢুকেছে মানব রুপে
-
সাঁঝের তারা ০৩/১১/২০১৭স্বদেশ উদ্ভট উটের পিঠে চলছে -- অনন্য...
-
আব্দুল হক ০১/১১/২০১৭অনেক সত্য কথা বলেছেন!!
-
ফেরদৌস রায়হান ০১/১১/২০১৭খুউব ভালো লিখেছেন । ভালো লাগলো ।
শুভকামনা রইলো । -
আজাদ আলী ০১/১১/২০১৭Nice writing dear poet.
-
সোলাইমান ০১/১১/২০১৭বেশ সুন্দর লাগল মনে